• ডাঃ লালা সৌরভ দাস,কনসালটেন্ট এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, এখন থেকে সিলেটের সোবহানীঘাটে ওয়েসিস হাসপাতালে ছুটির দিন বাদে বিকেল ৫টা - ৮টা রোগী দেখবেন।

  • শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলুন

    মানবদেহের সংক্রামক রোগসমূহ আমাদের দেহে প্রবেশ করে অপরিষ্কার পরিবেশে জীবনযাপনের জন্য। এমনকি সংক্রামক নয় এমন রোগসমূহও প্রবল আকার ধারন করে এমন পরিবেশে। তাই নিজের, পরিবারের এবং সমাজের সবার নিরাপত্তার স্বার্থে পরিষ্কার পরিছন্নতায় গুরুত্ব দিন।

  • শাঁকসবজি সহ পুষ্টিকর সুষম খাদ্যতালিকা মেনে খাবার গ্রহন করুন

    ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তের চর্বি বৃদ্ধি, দেহের ওজন বৃদ্ধি, ক্যান্সার সহ নানা সমস্যার সমাধান দিতে পারে সুষম খাদ্যতালিকা মেনে পরিমিত পরিমানে খাবার গ্রহনের অভ্যাসটি। এরই সাথে নিয়মিত ব্যায়াম, শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত ঘুম অত্যাবশ্যক।

  • বাসায় নিয়মিত ডায়াবেটিস পরিমাপের গুরুত্ব

    ডায়াবেটিস রোগীর নিজের রক্তের সুগার নিজে পরিমাপের গুরুত্ব অপরিসীম। একজন ডায়াবেটিস রোগী নিজের রক্তের সুগার মেনে নিজেই বুঝতে পারেন তা নিয়ন্ত্রনের মাঝে আছে কিনা এবং হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তের সুগার অতিরিক্ত কমে যাওয়া) নির্ণয় করে তা প্রতিরোধ করতে পারেন।

  • 1st BES-MAYO Advance Course in Endocrinology in Bangladesh

    The mid of 2018 brings an exciting news for Bangladeshi Endocrinologists. Mayo Clinic, a nonprofit academic medical center based in Rochester, Minnesota, focused on integrated clinical practice, education, and research and also world's number one Endocrine center is going to arrange a "Advance Course in Endocrinology" in collaboration with Bangladesh Endocrine Society on 24th-25th January, 2019

প্রেক্ষাপটঃ ইবোলা ভাইরাস এবং বাংলাদেশ

গল্পের নায়ক জোনাথন হারকার, পটভূমি ট্রান্সেলভেনিয়ার কারপেন্থিয়ান পর্বতমালা, গল্পের ভিলেন কাউন্ট ড্রাকুলা। কিছু শব্দেই ভেসে উঠে ব্রাম স্ট্রোকারের ড্রাকুলার গল্পের কথা। একশোরও বেশী বছর আগের লেখা এই গল্প অনুদিত হয়েছে বহু ভাষায়, এর ছায়া অবলম্বনেই লিখা হয়েছে শখানেক নাটক, বানানো কয়েক ডজন টিভি সিরিয়াল আর মুভি। হাল সময়ের মেয়েদের প্রিয় “ভ্যাম্পায়ারস ডায়রিস” ড্রাকুলা কাহিনীকে রোমান্টিকনেসের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ড্রাকুলা কাহিনীর বিবর্তন কোথায় গিয়ে থামবে বলা কঠিন। ড্রাকুলা বা ভ্যাম্পায়ার শব্দগুলো শুনলেই ভেসে উঠে কোন রক্তচোষা জীবের নাম, যে মানুষের রক্তপানে জীবনধারণ করে অভিশপ্ত জীবনের বীজবহন করে নিরীহ মানুষের মাঝে সেটা ছড়িয়ে বেড়ায়।


কোন গল্পের পুরোটা কখনো মিথ্যে হয় না। ভ্যাম্পায়ার বেট/বাদুড় সত্যিকারের কোন জীব একথা প্রথম জানতে পারি ন্যাশনাল জিওগ্রাম্ফির পর্দায়। ছোট ছোট বাদুড় যারা বেচেই থাকে অন্য প্রাণীদের রক্তপান করে, মানুষও তাদের খাবারের তালিকা থেকে বাদ যায়না। অস্ট্রেলিয়া সহ আরও বেশ কিছু দেশে অসতর্ক সমুদ্রপ্রেমিক ক্যাম্পারদের প্রায়ই শিকার হতে হয় এসব বাদুড়ের, অনেকটা আমাদের দেশের মশার মতো। অনেকক্ষেত্রেই বাদুড়ের কামড়ের এসব ভিকটিমদের বড় কোন ক্ষতি হয়ে উঠে না। আবার অনেকসময় ড্রাকুলা কাহিনীর মতোই এরা ছড়িয়ে দিয়ে যায় কিছু অভিশপ্ত বীজ। নিপাহ, ইবোলা, সারস এরা বাদুড়ের কিছু অভিশপ্ত বীজের নাম।
খুব বেশী দিন আগের কথা না, ২০১১ সাল দেশের উত্তরবঙ্গের কথা। শীতের সকালে খেজুরের রস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লো বেশ কিছু লোক। দ্রুত তাদের স্থানান্তরিত করা হয় নিকটস্থ হাসপাতালে। রোগ ধরার আগেই জ্বর, গায়ে ব্যথা আর ব্রেন ইনফেকশনের লক্ষন নিয়ে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়। শেষমেষ সংক্রামক রোগের বিশেষ বিভাগের সহায়তায় রোগ হিসাবে চিহ্নিত করা হয় নিপাহ ভাইরাস ইনফেকশন। নিপাহ ভাইরাস এদেশে এর আগে কখনই পাওয়া যায়নি, তবে কিভাবে হটাৎ করে বাংলাদেশে এই রোগ? কারন খুজতে গিয়ে এই থিওরিই খুঁজে পাওয়া হয় যে দেশের বাইরে থেকে মাইগ্রেট করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আসা বাদুড় যারা ফলের রস খেয়ে বেচে থাকে তারা বয়ে নিয়ে এসেছিলো এই রোগ। খেজুর গাছের রস খাবার সময় তাদের থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে খেজুরের রসে এবং শেষমেশ স্থান হয় গাছগুলো থেকে খেজুরের রস খাওয়া মানুষগুলোর শরীরে। এরপর এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে। (সূত্রঃ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ)
বর্তমানের উত্তর আফ্রিকার আরেক আতঙ্কের নাম ইবোলা ভাইরাস। এরও বহনকারী জীবগুলোর মাঝে অন্যতম একপ্রজাতির ফলখেকো বাদুড়। নানান ভাবে এই ভাইরাস স্থানান্তরিত হয় বাদুড় সহ আরও কিছু প্রাণীর দেহ থেকে মানবদেহে। সাধারণ ভাইরাল ফিভারের মতো শুরু হয়ে শেষ পর্যায়ে রক্তের প্লেটলেটের পরিমান কমিয়ে দেহের নানান স্থান থেকে স্বতঃস্ফূর্ত রক্তপাতের মাধ্যমে এটি আসলেই মানুষকে রূপ দেয় ড্রাকুলাগল্পের ভিক্টিমগুলোর মতো রক্তক্ষয়ী রুপে। একবার খারাপ পর্যায়ে চলে গেলে এতে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় ৯০% এর কাছাকাছি। এটুকুই আশার ব্যাপার হল এই রোগ হাঁচিকাশি বা স্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় না, শুধুমাত্র দেহের কোন সিক্রেসন যেমন থুথু, ঘাম বা চোখের পানি, বমি অথবা রক্ত এগুলোর স্পর্শে এই রোগ এক মানুষ থেকে আরেক মানুষের দেহে ছড়ায়। আফ্রিকার যেসব দেশে (সিয়েয়া লিয়ন, জাম্বিয়া) এসব রোগ প্রতিনিয়ত হচ্ছে, দেশগুলোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে নিযুক্ত আছে সেনাবাহিনীর অনেক বাঙ্গালী ভাইয়েরা। এখন আসলেই মনে প্রশ্ন জাগবে আমাদের দেশের মানুষ বা কতোটুকু নিরাপদ।
খুব সম্প্রতি সিয়েরা লিয়নের অন্যতম ডাক্তার ডাঃ শেখ উমর খান যিনি দেশের ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করছিলেন, তিনি নিজেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁকে তার এই অবদানের কথা স্মরণ রেখে জাতীয় বীরের উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। যেকোনো সংক্রামক রোগের ঝুকির মাঝে সবচেয়ে বেশীই থাকেন একজন ডাক্তার, একজন মেডিকেল ছাত্র, একজন নার্স। কতো রোগীকে আমরা কিছু না জেনেই, উপযুক্ত প্রস্তুতি না নিয়েই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই। সচেতনতার কোন বিকল্প তাই তাদের জন্য হয় না।

মাঝেমাঝে নিজের কাছেই অবাক লাগে, এতো বিচিত্র রোগের মাঝে আমরা আসলে বেঁচে আছি কিভাবে? তখন উত্তর খুঁজে পাই ড্রাকুলা গল্পেরই এক প্রার্থনার মাঝে, “আমাদের এবং সকল অশুভ শক্তির মাঝে ঈশ্বর সর্বদা বিরাজমান”।।
Share:

হারানো বন্ধুর থিয়োরি - কিছু অনুচ্চারিত বন্ধুর স্মরণে

The lost friend’s theory (হারানো বন্ধুর থিয়োরি) এর আরেক নাম হাইজিন হাইপোথিসিস। ছোটবেলা থেকে হাঁচির এলারজির প্রবল সমস্যা থাকায় এলারজির পিছনে কি কি ফ্যাক্টর দায়ী সেটা জানা নিয়ে উৎসুক ছিলাম বরাবরই। হাইজিন হাইপোথিসিস শব্দটা প্রথম জানতে পারি মেডিকেল ড্রামা “হাউস এমডি” দেখতে গিয়ে। শুনতে অনেক কঠিন শুনালেও মানেটা অনেক সোজা। একজন মানুষ বাচ্চাকালে যতবেশী পরিষ্কার থাকবে, তার রোগ হবার সম্ভাবনা ততবেশী। কথাটা শুনতে উলটো শুনায়? কতখানি ঠিক এই তথ্য? 


হারানো বন্ধুর থিয়োরিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। জীবাণুগুলো আমাদের হারানো বন্ধু। বিবর্তনের একেবারে শুরু থেকে মানুষ যখন বদলাতে শুরু করলো তখন সে একা বিবর্তিত হতে পারেনি, তার বিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে রোগের জীবাণুগুলো। মানবদেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা এই জীবাণুদের দান। এক সদ্যোজাত শিশু যখন বাইরের পরিবেশের সংস্পর্শে আসে তখন তার দেহে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা প্রায় থাকেনা বললেই চলে। স্রষ্টার অশেষ কৃপাতে প্রথম ৬ মাস মায়ের বুকের দুধ তাকে পরোক্ষ ভাবে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু এই ছয় মাস জীবনের আরেক বন্ধু হল এই জীবাণুগুলো। জীবাণুগুলো দুর্বল ভেবে বাচ্চাকে আক্রমন করে পরে অবাক হয়ে যায় তার পরোক্ষ ভাবে পাওয়া এই রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা দেখে। যুদ্ধে হেরে পরাজয়ের পর পলায়নের সময় সে বাচ্চার নিজের দেহের প্রহরী রোগী প্রতিরোধের ক্ষমতা নিয়ে জন্মানো কোষগুলোতে রেখে যায় নিজের ছাপ। ঠিক ছয়মাস পর মায়ের বুকের দুধের এই রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতাটা চলে যায়। তারপরেও, বহুদিন পার হয়ে যাবার পরেও যখন রোগের জীবাণু আবার আক্রমন করে দেহকে, চেনা শত্রুকে দেহের শিক্ষিত প্রহরীরা চিনে নেয় এক মুহূর্তেই। এই কারনে ছোটবেলার এসব ছোটখাটো সর্দিজ্বরকে প্রয়োজনীয় ধরে নিয়ে এদেরকে মানুষের বন্ধু বলে ধরে নেয়া হয়। প্রায় একই কথা দাড়ায় ডাস্ট, পোলেন আরও নানা এলারজির জন্য। যারা খুব ছোটবেলাতে গ্রামের ধুলোবালি, পরাগরেনু, পশুপাখির সংস্পর্শে থেকে বড় হয়েছে তাদের বড় হয়ে এসব এলারজির সমস্যা প্রায় থাকেই না বলে দেখা গেছে।
কিন্তু যুগের বিবর্তনে শহুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে আমরা এখন দিনদিন এসব রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা হারাচ্ছি। বাচ্চাকে প্রতিদিন এন্টিসেপ্টিক সাবানে গোসল করানো থেকে শুরু করে ধুলোবালির ছিটেফোঁটাবিহীন ঘরে রাখা, একটু অসুস্থ হলেই এন্টিবায়টিক গুলে খাওয়ানো আর কৌটাজাত দুধ খাওয়ানোর কারনে ছোটবেলায় যেসব রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা অনায়শে পেয়ে যাওয়ার কথা সেগুলোতে এযুগের বাচ্চারা ঘাটতিতে থেকে বড় হচ্ছে। দেহের প্রহরীরা বড় বেলায় বেয়াড়া স্বভাবের হয়ে যায়, বাইরের রোগের জীবাণুকে এরা তখন চেনার আগ্রহটুকু বোধ করে না। উলটো ঝামেলা বাধায় নিজের দেহের নিরীহ কোষগুলোর সাথে। এই কারনে প্রতিনিয়ত নিজের দেহের বিপরীতে নিজের ইউমিন সিস্টেম দিয়ে হওয়া রোগগুলো বাড়ছে। SLE, Acute Lymphoblastic Leukemia, Arthritis, Type 1 DM, Myasthenia Gravis এসব বিধঘুটে নামের রোগ যা নিজের দেহের অশিক্ষিত প্রহরী কোষ দিয়েই হয়, এসব রোগর নাম এতো ঘনঘন শোনা যাচ্ছে। আমাদের দেশ তাও এসব রোগে অনেক পিছিয়ে। উন্নত দেশগুলো যেখানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় বেশী এগিয়ে, সেখানে ক্যান্সারের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর অনেক কিছুই প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো যদি হয়তো বাচ্চাটা ছোটবেলায় একটু অসুখে ভুগত। হাইজিন হায়পোথিসিস বা লস্ট ফ্রেন্ডস থিয়োরি একে এমন ভাবেই ব্যাখ্যা করে।
আজকে বন্ধু দিবসের সাথে সাথে পহেলা আগস্ট থেকে আগামী সাত আগস্ট পর্যন্ত চলছে World Breast Feeding Week। এই দুইয়ের সঠিক প্রয়োগে হয়তো আগামী প্রজন্মকে কিছু আসন্ন বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এক মনিষী বলেছিলেন, “পৃথিবীতে যদি কোন ধুলাবালি না থাকতো, তবে মানুষ হাজার বছর বাঁচত।” কিন্তু বাস্তবে ধুলাবালি আর রোগজীবাণুর বন্ধুত্বপূর্ণ অবদানটাকেও অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।
Share:

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস

প্রায় তিন দশক আগের কথা, ২৬ জুলাই ১৯৮২। ৩১ বছর বয়সী তরুন অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটিতে একটি শুটিং স্পটে একশন দৃশ্যে অভিনয় করছেন মনমোহন দেশাই-এর বিখ্যাত “কুলি” ছবির জন্য। সে জামানায় একশন দৃশ্যের জন্য স্টান্টম্যানের ব্যবহার এতো বহুল প্রচলিত হয়ে উঠেনি, অভিনেতারা নিজেরাই চালিয়ে যেতেন বিপদজনক এই কাজ। একটি একশন দৃশ্যে অভিনয়কালে সঠিক সময়ের আগেভাগেই জাম্প দিয়ে গুরুতর আহত হলেন তিনি। গুরুতর আহত নায়ককে ব্যাঙ্গালোরে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দ্রুত নিয়ে আসা হল মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হসপিটালে। ডাক্তার জানালেন পেটের ভিতরে প্রচুর অভ্যন্তরীণ রক্তপাত হয়ে রোগীর অবস্থা আশংকাজনক, দ্রুত কয়েক ব্যাগ রক্ত লাগবে। তড়িঘড়ি করেই রক্ত জোগাড় করা হল, রক্ত জোগাড় করে অপারেশন থিয়েটারে দ্রুত ইমারজেন্সি স্প্লিনেকটমি করা হল এই মহানায়কের। এরপর দিন গেলো, স্রষ্টার কৃপায় ধীরে ধীরে অল্পঅল্প করে সুস্থ হতে থাকলেন তিনি। এরপর বহুবছর কেটে গেলো। আগের ঘটনার পর থেকে নায়ক স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে প্রায়ই রুটিন চেক-আপ করতে যেতেন ডাক্তারের কাছে। ৮ বছর পর লিভারের কিছু এবনরমাল টেস্ট রেজাল্ট দেখে ডাক্তারের সন্দেহ হল। আরও বিস্তারিত পরীক্ষানিরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়লো নায়কের লিভার সিরোসিস (বাংলায় বলতে গেলে, যকৃতের প্রায় চিরস্থায়ী একটা রোগ যার কারনে যকৃতের ক্ষমতা ক্রমাগত কমে গিয়ে পুষ্টি উপাদানগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং যা পরবর্তীতে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে)। নায়ক অবাক হলেন, লিভার সিরোসিস রোগ এলকোহলিকদের মাঝে বেশী। তিনি তাঁর জীবনে মদ্যপানের স্বভাবটাকে ঘৃণা করে কঠিনভাবে একে সর্বদা বর্জন করে গেছেন। তবে কেন তাঁর এই রোগ? পরে দেখা গেলো তাঁর লিভার সিরোসিস এর কারন ভাইরাল হেপাটাইটিস। কবে কি ভাবে এই ভাইরাসের শিকার হলেন তিনি? এরও উত্তর পাওয়া গেলো, সেই মেসিভ ব্লাড ট্রান্সফিউসনের হিস্ট্রি থেকে। তখনকার দিনে হেপাটাইটিসের জন্য রক্তদানের আগে এন্টিজেন টেস্টগুলো ছিল অপ্রতুল, আর এতো অল্পসময়ে এতো বিশাল পরিমানের রক্ত লেগেছিল নায়কের যে হয়তো কোন রক্তের ব্যাগ বাদ পড়ে যায় পর্যাপ্ত পরীক্ষা থেকে। এখনো নায়ককে লিভার সিরোসিসের জন্য প্রতিনিয়ত চিকিৎসা নিয়ে যেতে হচ্ছে...





পুরো ঘটনাটা গল্পের মতো, বাস্তবে হরহামেশা এই গল্প নতুন করে লিপিবদ্ধ হচ্ছে। হেপাটাইটিস এখন মেডিসিনের এক অন্যতম রোগ। কিছু হেপাটাইটিস খুবই সাধারণ। বাইরে হয়তো খেতে গিয়ে ওয়েটারের দেয়া অপরিষ্কার পানির গ্লাস থেকেই হয়তো আক্রান্ত হবেন আপনি। দুর্বল আর হলুদবর্ণ ধারণ করে একমাস ঘরের ভিতর শুয়ে বসে থেকে বাংলাদেশের প্রন্থা অনুযায়ী তেলমশলা কম দেয়া বিস্বাদের খাবার খেয়ে ঠিকই ভালো হয়ে যাবেন। কিন্তু বিপদজনক প্রজাতির হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো রক্তের আদানপ্রদান, শারীরিক সম্পর্ক অথবা ড্রাগ নিডেলের মাধ্যমে আপনার দেহকে আক্রান্ত করে হয়তো বুঝতেই দিবে না যে আপনি অসুস্থ। নীরবে বাসা বানিয়ে আপনার দেহকে শেষ করে ঠিক শেষ মুহূর্তে জানান দিবে এই যে আমি তোমার চিরসঙ্গী ছিলাম চুপিচুপি।

স্কুলে যাবার পর থেকেই বাইরের খাবারের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ মেটাতে লুকিয়েচুরিয়ে বাইরে খাওয়া, হয়তো সেই খাওয়া থেকে জন্ডিস। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হল, পরীক্ষানিরীক্ষা করে ডাক্তার সাহেব জানালেন এক মাসের বিশ্রাম নিতে, এটাই নাকি চিকিৎসা। তখন ক্লাস ৬/৭ এ পড়ি। একমাসের বিশ্রাম মানে একমাসের স্কুল ছুটি। আমাকে আর কে পায়! অনেক বড় রোগীর মতো মুখ ভার করে বিছানায় শুয়ে থাকি, আত্মীয়স্বজনরা এসে দেখে যান। ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করে বেশ কিছু গল্পের বইও জোগাড় করে ফেললাম, সময়টা ভালোই কাটল। শুধু যন্ত্রণার ছিল খাওয়াদাওয়াটা, মুখের স্বাদটাতো নাই বললেই চলে, তার উপর আমার জন্য রান্নাতে তেলমশলার চরম ঘাটতি। এরমাঝে কে জানি পরামর্শ দিলে আয়ুর্বেদিক কোন ঔষধে নাকি জন্ডিসটা তাড়াতাড়ি কমে যায়। এক বোতল সেই ঔষধটাও জোগাড় করা হল, ঔষধের রঙটা দেখে আমার চীৎকারে অতঃপর আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার সেইখানেই সমাপ্তি। ইতিমধ্যে আমার এক মামাতো বোন আমাদের পরিবার থেকে প্রথম ডাক্তারনী হয়ে বের হয়েছে। সে মা বাবাকে বুদ্ধি দিল, কোত্থেকে কোন ভ্যাক্সিনেশন করালে নাকি এই রোগের আরও খারাপ জাতভাই থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আমিও প্রথম প্রথম অনেক আগ্রহ নিয়ে গেলাম ভ্যাক্সিনেশন করাতে, প্রথমবার সূইের খোঁচাতেই আগ্রহ মিটে গেলো। তারপরও ডাক্তারবোনের জোরাজোরিতে পুরো ডোসটা শেষ করতে বাধ্য হতে হয়। এখনো মেডিকেলে অনেককেই দেখি ডাক্তার হয়ে গেছে, কিন্তু হেপাটাইটিসের ভ্যাক্সিনেশনটা করা নেই। তখন মামাতো বোনের ডাক্তারির কথাটা মনে চলে আসে।

এখন সরকার ছোট বাচ্চাদের ভ্যাক্সিনেশনে হেপাটাইটিস বি ভ্যাক্সিনটাকে যোগ করে দিয়েছে বিনামূল্যে। কিন্তু আমার ফ্রেন্ডলিস্টের প্রায় সবাই নব্বইের দশকের অথবা তারও আগের, তখন এই ভ্যাক্সিন সরকারের বিনামূল্যে প্রদানকারী ভ্যাক্সিনগুলোর তালিকায় ছিল না। তাই এমন মানুষ হয়তো কম হবে না যাদের এখনো ভ্যাক্সিন নেয়া হয়নি। ভ্যাক্সিন নিতে হয়তো কিছু টাকা বের হয়ে যাবে পকেট থেকে, তারপরও সামান্য সতর্কতাই অনেক বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দিবে আপনাকে। হেপা-এ এবং হেপা-বি এই দুই ভাইরাসের প্রতিরোধে ভ্যাক্সিন আছে, সব থেকে খারাপ হেপা-সির প্রতিরোধে এখনো কোন ভ্যাক্সিন আবিষ্কৃত হয়নি। তাই নিকটআত্মীয়র বাইরে কারো থেকে রক্তগ্রহনে বিশেষ সতর্কতা নিন, ধর্মীয় অনুশাসনের কোন বিকল্প নেই। এমনকি সেলুনে চুল কাটতে অথবা সেভ করতে গেলে নতুন ব্লেড কেনার টাকা দরকার হলে নিজের পকেট থেকে দিয়ে হলেও পূর্বব্যবহৃত ব্লেড বদলাতে বাধ্য করুন। ডাক্তার যারা আছেন, তাঁদের কাছে মামার বাড়ির গল্প গাইবো না। হেপাটাইটিস অথবা এইচআইভিযুক্ত হাইলি ডেঞ্জারাস ইনফেক্সাস রোগীকে কিভাবে ডিল করতে হয় এটা না জেনে কেউ পাস করে না। যদি মিস হয়ে যায় অথবা ভুলে গিয়ে থাকেন তো আরেকবার স্মরণ করে নিবেন।

যারা সন্ধানী/মেডিসিন ক্লাব/রক্তদান কর্মসূচীর সাথে জড়িত, তাদের সবথেকে বড় ভূমিকা হতে পারে মানুষকে একটুখানি সচেতন করে তোলায়। একটা ব্যবহারকৃত নিডলের মাঝে এইডস এর জীবাণু এইচআইভি আর হেপাটাইটিস দুটো জীবাণু থাকলে সেই নিডেল দিয়ে যদি প্রিক খান তবে আপনার এইডস হওয়ার যতটা না চান্স থাকবে তার থেকে প্রায় ১০০গুন বেশী চান্স থাকবে হেপাটাইটিস দিয়ে আক্রান্ত হবার। নিজের গরজে একটু স্যারদের জিজ্ঞেশ করে হলেও জেনে নিন, হেপাটাইটিস বি এর সংক্রামণে কি করবেন, হেপাটাইটিস সি এর সংক্রামণে কি করবেন। নিজে জেনে নিলে হয়তো নিজের সাথে অন্যদের জানার ঘাটতিটাও পূরণ করে দিতে পারবেন।

এতোকিছু বলার কারন আজকে “বিশ্ব যকৃত প্রদাহ দিবস”। নাহ, “বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস” এই বাংলিশটাই ভালো শোনায়। ঈদের খাবার খেতে গিয়ে পরিষ্কার পরিছন্নতায় এবার তাই হয়তো একটু বেশিই খেয়াল রাখবেন। সবাইকে আবারো ঈদের শুভেচ্ছা রইলো।।
Share:

ডাক্তার এবং কৃতজ্ঞতার কার্পণ্য

এক গরিব বালক স্কুলে যাওয়ার পথে বাড়িতে বাড়িতে পণ্য বিক্রি করতো। একদিন সে খুব ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঠিক করলো পরবর্তী বাড়িতে গিয়ে খাবার চাইবে। দরজার কড়া নাড়ার পর এক মেয়ে বেরিয়ে এল। সে হতভম্ব হয়ে খাবারের পরিবর্তে এক গ্লাস পানি চাইল। মেয়েটি ক্ষুধার্ত ছেলেটিকে দেখে পানির পরিবর্তে এক গ্লাস দুধ দিল। সে পরিপূর্ণ তৃপ্তিসহ দুধপান করলো এবং বলল, আপনাকে কতো দাম দিতে হবে? মেয়েটি বলল, মা শিখিয়েছে ভালোবেসে কিছু দিলে দাম দিতে হয় না! ছেলেটি তখন তাকে ধন্যবাদ জানাল এবং মেয়েটির এই মহানুভবতা তাকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী করলো। সে প্রতিদান দেয়ার জন্য মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হল। মহান স্রষ্টা ও মানুষের প্রতি তার বিশ্বাস অনেকগুন বেড়ে গেলো। সেদিনের সেই গরীব ছেলেটিই উনিশ শতকের আমেরিকার বিখ্যাত গাইনোকোলোজিস্ট Dr. Howard Kelly.


… সময়ের পরিক্রমায় সেদিনের সেই মেয়েটি, বয়সকালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় ডাক্তাররা শত চেষ্টা করেও সারিয়ে তুলতে পারেনি। তাকে আমেরিকার একটি বিখ্যাত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন জটিল রোগ নিয়ে গবেষণা করনে। Dr. Howard Kelly ওই হাসপাতালের একজন গাইনোকোলোজিস্ট ছিলেন এবং তাকে ভদ্রমহিলার চিকিৎসার দায়িত্ব দেয়া নয়। Dr. Howard Kelly যখন সেই রোগীর বিবরণ শুনছিলেন, তখন তাঁর পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে যায়। তাড়াতাড়ি তিনি ওই রোগিণীকে দেখতে যান এবং চিনতে পারেন। চেম্বারে ফিরে এসে মনে মনে স্থির করেন, যেভাবেই হোক এই রোগীকে সারিয়ে তুলবেন। Dr. Howard Kelly, নিজের তক্তাবধানে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর, অবশেষে সেই রোগীর পুরোপুরি সারিয়ে তুলতে সক্ষম হন। তিনি হিসাব শাখায় ভদ্রমহিলার চিকিৎসার বিলটি তাকে দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বিলটি দেখে, চিকিৎসার সকল খরচ পরিশোধ করেন এবং বিলের নিচের অংশে কিছু লিখে রোগিণীর রুমে পাঠিয়ে দেন। প্রথমে সেই মহিলা বিল দেখে আঁতকে উঠেন এবং বুঝতে পারেন সারাজীবনেও এই বিল পরিশোধ করা তাঁর পক্ষে কোনক্রমে সম্ভব নয়। পরে ভদ্রমহিলার চোখ বিলের নিচের অংশে যায়, সেখানে লেখা ছিল- “Paid in full with one glass of milk.”

এই গল্পটা ইংরেজি ভার্সন হয়তো অনেকেরই শোনা। হাতের কাছে পাওয়া একটা মেডিসিন কোম্পানির লিটারেচার থেকে হুবহু তুলে ধরলাম। গল্পটি প্রায় সত্যি। প্রায় সত্যি বলছি এই কারনে, Dr. Howard Kelly এর জীবনী যিনি লিখেছেন তার লিখায় তিনি বলেছেন, Dr. Howard Kelly কখনো এতো খারাপ অর্থনীতিক অবস্থায় ছিলেন না, যে তাকে কখনো বাড়ি বাড়ি গিয়ে পণ্য বিক্রি করতে হতো। Dr. Howard Kelly নিজের ভাষায় গ্রীষ্মের দিনে পেনসিলভেনিয়ার হাইকিং করতে গিয়ে এক ফার্মহাউসে পাশে পেয়ে পিপাসা নিবারন করতে গিয়ে মেয়েটির সাথে দেখা। আর বৃদ্ধ অবস্থায় মেয়েটির কেস এমন কমপ্লিকেটেড কিছু ছিল না, Dr. Howard Kelly এমনিতেই প্রতি ৪ জন রোগীতে ১ জনকে ফ্রিতে দেখতেন। এটুকু বাদে বাকি ঘটনাটা সত্যিকারের। কিছু কাহিনী সবসময়ই একটু রঙমাখা, তবুও এমন ভালোবাসার গল্প শুনতে ভালোই লাগে অনেক। কিন্তু Dr. Howard Kelly এর মতো শত শত নাম না জানা ডাক্তার বাংলাদেশে রোগীর চিকিৎসাতে নিজের বিলটা না নিয়ে চেষ্টা করে যান মানুষকে কিছুটা ভালবাসা দিতে। এঁরা বড় হয়েছেন Dr. Howard Kelly এর থেকেও গরীব পরিবেশে, শিক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়ছে তাদের। তাঁরা এমনকি বিল না নেয়ার বিনিময়ে রোগীর কাছথেকে এক গ্লাস দুধেরও আশা রাখেন নি। তবুও এই ডাক্তারদের বদনাম হয়, মধ্যসত্ত্বভোগী পরজীবীদের জন্য যারা পুরো স্বাস্থ্যসেবাটাকে একটা বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করেছেন।

 ভাবতে ইচ্ছে হয়, হয়তো একদিন সকলের চোখ খুলবে। অন্ধকার পর্দার আড়ালে থাকা বাংলাদেশের Dr. Howard Kelly দেরকে এরা দেখতে শিখবে।।
Share:

ডায়গনোসিস

কোন এক মঙ্গলবার, জানুয়ারি মাস চলছে তখন। মাস খানেক হয়েছে ইন্টার্ন হিসাবে মেডিসিন ওয়ার্ডে প্লেসমেন্টের। ফিমেইল এডমিশন টেবিলে বসে আছি। এডমিশন চলছে, পেসেন্টের অপেক্ষা। সকালবেলার একটা সময়ে পেসেন্ট আসার একটা রাশ আওয়ার থাকে, হুড়মুড় করে পেসেন্ট আসতে থাকে। ঐ দিন সময়টা বেশ নিরবেই কাটছিল। হটাত এক রোগিণীর আগমন। মধ্যবয়স্ক মহিলা, সাথে মেয়ের বয়সী আরেকজন। এক্সামিনেসন টেবিলে শুতে বলে রোগীর হিস্ট্রি নিতে গেলাম। মহিলা নিজে কোন কথাই বলতে চান না, সাথের জন আবার কথা বলা শুরু করলে থামতেই চায় না। ধমক দিয়ে মহিলাকে নিজের সমস্যা নিজেই বলতে বললাম, তার ভাষ্য অনুযায়ী সপ্তাহখানিক আগে জ্বর আর হাতের জোড়ায় ব্যথার কারনে গ্রামের এক ডাক্তারকে দেখান তিনি। ডাক্তার দেখে কিছু ওষুধ দেয়ার পর সেটা খাবার পর জ্বর কমে গেছে, কিন্তু মুখে আর হাতের উপর গুটিগুটি কতোগুলো আর মুখের ভিতরে ঘা। “ফিভার উইথ র‍্যাশ” আর “এডভারস ড্রাগ রিএকশন” দুটোকে মাথায় রেখে আরও কিছু প্রশ্ন করলাম, মহিলা কোন উত্তর সোজা ভাবে দিতে চায় না। মুখ দিয়ে কখনো রক্ত গেছে কিনা, কখনো পক্স হয়েছে কিনা আর কোন সমস্যা আছে কিনা এসব প্রশ্নের জবাবে একবার হাঁ বলে, আরেকবার না বলে। হিস্ট্রি শেষ করে ক্লিনিকাল এক্সামিনেসন করতে গিয়ে বিপি মাপতে গিয়ে দেখি প্রেসার ৬০/৪০। নার্সকে দ্রুত আইভি কেনুলা করতে বলে সাথের পুরুষ এটেনড্যান্সকে পাঠালাম আনুশাঙ্গিক জিনিসপত্র আনতে। কথা বলে জানতে পারলাম প্রায় ২ দিন ধরে তার কিছু খেতে ভালো লাগে না, এই কারনে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে বসে আছে। এদিকে সিস্টার দ্বিধাবোধ করছে, গুটিগুটি দাগ গুলো কিসের না কি, সংক্রামক না আবার। ভাল করে তাকালাম এতক্ষনে মহিলার চেহারার দিকে, দাগগুলোকে টিপিকাল চিকেনপক্সের দাগ বলা যাবে না, কি ডেসক্রিপসন হতে পারে নিজেই বুঝতে পারছি না, একটু পর এসেই স্যার জিজ্ঞেশ করবেন ডেসক্রাইব ইওর কেইস। ম্যাকুলো-প্যাপুলার লেইসন বলেই ডেসক্রাইব করব ভাবলাম, তারপর মুখের ভিতরে ঘা আর জ্বরের জন্য প্রবাব্লি এন্টিবায়োটিক ইনটেকের হিস্ট্রি আছে বলে স্টিভেন জনসন সিন্ড্রোমেই নিয়ে যাবার কথা চিন্তা করলাম। যেইখানেতে বাঘের ভয়, সেইখানেতেই সন্ধ্যা হয়। বলতে না বলতেই স্যার এসে হাজির। তাও একজন স্যার না, তিন তিন জন স্যার। অগোছালো ভাবে হিস্ট্রি প্রেস্নেন্ট করলাম, নিজের ডায়গনোসিস ও বললাম। স্যাররাও দেখলাম দাগটাকে নিয়ে একটু কনফিউসড। জ্বর আগে না দাগ আগে এই প্রশ্নের উত্তর মহিলা ঠিক ভাবে দিতে পারে না, আবার তার নাকি আগে থেকেই জোড়ায় ব্যথা মাঝেমাঝেই থাকে। এক স্যার হটাত জানতে চাইলেন, এখানে আসলেন কেন? তখন হটাত মহিলা বলে, গতকাল এক ডাক্তার দেখাইসি উনিই প্রেসক্রিপশনে লিখলেন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগবে। আমি মাঝ থেকে বজ্রাহত, এতক্ষন পর এই কথা বলতেসে মহিলা! সাথের বেশী কথা বলা মহিলাটা এতক্ষনে এনে সেই প্রেসক্রিপসন স্যারের কাছে দিল, উঁকিঝুঁকি মেরে দেখালাম আমাদের মেডিকেলেরই স্কিনভিডির বড় এক স্যার, স্যারের ডায়গনোসিসও স্টিভেন জনসন সিন্ড্রোম। দেখে নিজের মাঝে একটা আত্মতৃপ্তির বোধ আসলো, যাক চিন্তা ভাবনার লাইনতো ঠিক আছে। স্যাররাও এডভারস ড্রাগ রিএকশন হিসাবে পেসেন্টকে ট্রিট করার সায় দিলেন। রোগিণীর চিকিৎসা হল, সকল এন্টিবায়োটিক বাদ দিয়ে জ্বরের জন্য নাপা সাপোসিটোরি, ফেক্সোফেনাডিন ১৮০গ্রাম, অরাল স্টেরয়েড (স্কিনের স্যারের পরামর্শে), রেনিটিডিন এবং প্রয়োজনে পারএন্টারাল নিউট্রেসন। পরদিন অন্যান্য রোগীদের মতো রোগিণীর রুটিন ইনভেসটিগেসনগুলো (CBC, Urine analysis, Serum Creatinine, RBS etc) হাসপাতালের ল্যাবে পাঠানো হল। রাতে রাউন্ডে গিয়ে যথারীতি প্রায় একই রকম রিপোর্ট দেখলাম সিবিসি নরমাল, ইএসআর একটু বেশী, ইউরিনে কিছু পাস সেল, নো প্রোটিন, নো কাস্ট এরকম রিপোর্ট, সরকারী হাসপাতালের রিপোর্ট যেমন হয়। এদিকে রোগীর লোক আমাদের কথায় গ্রামের ডাক্তার কি ওষুধ দিয়েছিল সেটা এসএমএস করে জোগাড় করেছে। এডভারস ড্রাগ রিএকশন করতে পারে এমন এন্টিবায়োটিক থাকায় আমরা আর ডায়গনোসিস পাল্টানোর কথা ভাবলাম না। ৪/৫ দিন গেলো, রোগীনির কিছুটা ভালো লাগছে। একেতো শীতের সময়, তার উপর হাসপাতালে কেউ থাকতে চায় না। রাউন্ড বা ফলোআপে রোগিণীর পাশে গেলেই তার এক কথা, ওষুধ লিখে ছুটি দিয়ে দিতে। পরে স্যার এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে বললেন যেতে চাইলে DOR (ডিসচার্জ অন রিকুয়েস্ট) লিখে ছুটি দিতে। রোগিণী খুশি মনে চলে গেলো, আমরাও ভুলে গেলাম ব্যাপারটা।



সপ্তাহ দুয়েক পর নন-এডমিশন দিনে এডমিশন টেবিলে বসে আছি। রোগিণী আবার হাজির, হাতে ছুটির কাগজটা। তার সিম্পটম আবার দেখা দিয়েছে, কোন কোন ওষুধ আবার খেতে হবে জানতে এসেছে। রোগীর অবস্থা দেখে রোগীকে আবার ভর্তি হতে বললাম, না সে ভর্তি হবে না। ভর্তির বাইরে আমরা কোন রোগীকে কিছু প্রেসক্রাইব করতে পারিনা বলে বহির্বিভাগে আরপির সাথে যোগাযোগ করতে বললাম। ভাবছিলাম আরপি হয়তো তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে মানাতে পারবে ভর্তি হওয়ার জন্য। সেই গিয়ে যে সে কই হারিয়ে গেলো আর দেখা গেলো না।
এরও আরও কিছুদিন পর। রোগিণী আবার ভর্তি হল, অন্য একটা মেডিসিন ইউনিটে। এবার সাথে নতুন সিম্পটম, দুদিন ধরে প্রস্রাব প্রায় হয়ই না, রোগিণীর খুব অবস্থা খারাপ। জোড়ায় ব্যথা, মুখে ঘা আর কিডনির সমস্যা সবকিছুকে এক সাথে ফেলে নিগেটিভ সিম্পটমগুলোকে বাদ দিলে একটাই ডায়গনোসিস আসে, লুপাস নেফ্রাইটিস, সিস্টেমিক লুপাস এরাইথোমেটোসাস (SLE) এর একটা খারাপ প্রেসেন্টেসন। ডায়গনোসিস নিশ্চিত করার জন্য এবার বাইরের ভালো ল্যাবে CBC, Unrine analysis, ANA, anti-ds DNA করার জন্য পাঠানো হল। দুর্ভাগ্য, এসব রিপোর্ট হাতে আসার আগেই রোগিণী মৃত্যুবরণ করেন।

কাজ করে উপলব্ধি একটাই, প্রায় সবসময়ই আপনি যা ভাববেন এটাই সত্যিকারের ডায়গনোসিস। কিছু রোগীর জন্য আপনি কোন ডায়গনোসিস খুঁজে পাবেন না। এরা দ্বার থেকে দ্বার ঘুরবে, কিছু ভালো হয়ে যাবে, কিছু খারাপ। কিন্তু ডায়গনোসিস (মিস-ডায়গনোসিস বলাই ভালো) করা কিছু রোগীর ভাগ্য খারাপের কারনেই হোক, রোগীর নিজের খামখেয়ালীপনার কারনেই হোক অথবা আমাদের কোন ভুলত্রুটির কারনেই হোক, খারাপ কিছু হবে। হয়তো এরকম রোগী ০.০১% এর ও কম। কিন্তু এরাই মনে ১০০% ছাপ রেখে যাবে।

This is why probably we doctors can’t afford to make any mistake, even have to correct the mistake that was not even there.
Share:

প্রফেসনাল এক্সামঃ নতুনে করে পুরনো দিনের কথা

প্রথম প্রফঃ ২০০৯ এর জুলাই মাস, হোস্টেলে থমথমে অবস্থা। কয়েকদিন হল সরকার বদলের। সবার মাঝে চাপা অস্থিরতা। তখন ২১১ নম্বর রুমের বাসিন্দা। পাঁচ রুমমেট আমরা, একেকজন একেক প্রজাতির। তিনজন জানপ্রান দিয়ে পড়ছে। আমি আর হিমেল দুইজন একেতো ফাকিবাজ, তার উপর মনমেজাজ খারাপ, হয় মোবাইলে টিপাটিপি করে বেড়াই, না হয় গল্পবইের দুনিয়াতে ব্যস্ত। সত্যিকথা বলতে ফাস্ট প্রফের আগে যত তিনগোয়েন্দা আর মাসুদরানা পড়া হল, ৫ বছরের মেডিকেলে তার অর্ধেকও পড়া হয়ে উঠেনি। বেশী মানুষ এক সাথে বেশীক্ষণ থাকলে ঝামেলা বাড়ে, প্রফের আগেতো মেজাজ এমনিতেই সবার চড়া, অনেক ঝামেলা অনেক কষ্টের প্রতিটা রাত। এক্সামের ঠিক আগের দিনে কতোগুলো উড়ু সাজেসান আসতো, তবে যার রটে তার কিছুতো বটে। এসব পড়তে গিয়ে অনেকের আগেরদিন রাতের ঘুমটা হারাম হয়ে যেত। তারপরেও খাতায় ছাইপাস কিছু লিখে এসে দুপুরে হোস্টেলের কিছুটা কঠিন, কিছুটা তরল আর কিছুটা বায়বীয় খাবার খেয়ে দুপুরের শান্তির ঘুমের থেকে বড় কিছু ছিল না লাইফে। ঘুমের মাঝে তাড়া করে যেত দুঃস্বপ্নরা, ৫ মার্কের প্রশ্ন ভুল করে এসেছি, দুই মার্কের উত্তর দিয়ে ভুলে গেছি, পাস হবে তো? ৬ দিনের মহাযুদ্ধ পার হয়, ভাইভার রুটিন দিল। স্লাইড দেখা, সাজেসান, কোন এক্সটারনাল আসবে এসব নিয়ে কতো জল্পনা কল্পনা। এনাটমির সফটপার্ট মোটেই সফট না, আমাদের রহিম স্যারের কথাই কানে বাজত বারবার, “দেখবা তোমাদের কিছু ফ্রেন্ডরা পাস করে গেছে, আর কিছু ফ্রেন্ডরা এখনো *** এর ভিসেরা হাতে নিয়ে বসে আছে”। আর হার্ড পার্টে স্লাইড দেখতে মাইক্রোস্কোপের লেন্সের ভিতর দিয়ে তাকানোর বদলে ম্যাক্রোসকপিক ফাইনডিঙ্গস, স্লাইডে ছোট্ট করে লিখা নাম্বার অথবা স্লাইডের আকারআকৃতি দেখার জন্য বাইরে দিয়েই বেশী উঁকিঝুঁকি মারতাম। সেলিমরেজা আর পিন্টুশুভর হিস্টোলোজির কতো পেজ যে ছিঁড়ল পোলাপাইন। ভাইভা দিয়ে এসে ঝুম বৃষ্টি, পোলাপাইনের স্টেমিনার শেষ নাই। হৈচৈ করে হাফ প্যান্ট পরে মাঠে ফুটবল খেলতে গেলো, দুইতালার বারান্দা থেকে এই দৃশ্য দেখে ভাবলাম, এইতো জীবন!

এরপর মাসখানেক পার, বাসায় প্রফ পরবর্তী ছুটি কাটিয়ে এর মধ্যেই ওয়ার্ড জীবন শুরু হয়ে গেছে। কোন একটা ছোট্ট ছুটিতে বাসায় যাওয়া, হটাত শুনি রেজাল্ট দিয়ে দিয়েছে, চিটাগাং মেডিকেলের এক মামাকে ফোন দিলে জানা যায় রেজাল্ট। হটাত মনে দুনিয়ার টেনশন, আরে বায়োকেম যে খারাপ দিসি, রেজাল্ট জেনে আর কি হবে। এদিক অদিক করতে করতে ফোন দিলামই শেষ পর্যন্ত, পাস শব্দটা কেমন শুনায় প্রতিটা ভালো খারাপ মেডিকেল স্টুডেন্টদের জীবনে ঠিক ঐ মুহূর্তেই সেটা বোঝা যায়। 





২য় প্রফঃ ২ বছরে কটকটা পাঁচটা সাবজেক্ট পড়ে জিবহার টেস্টবাডগুলো অনেক আগেই অনুভূতিশূন্য। প্রতিক্ষা কেবল “কেমনেতে এই পাঁচ বিষয়ের চক্কর থেকে বার হই”। কেউ কেউ ধরেই নিচেছে, সব সাবজেক্ট একবারে পার করা সম্ভব না, সিলেক্টিভ কিছু সাবজেক্ট ধরে তাই পড়া তাদের। যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শন সূচক, ২য় প্রফের শিক্ষকদের মন বুঝে উত্তর দেয়া আসলেই অনেক কঠিন। উপরন্তু এই একটা প্রফ যখন আমরা সবাই বান্দর থাকি, বয়সের দোষ। পুরা ব্যাচ ল্যাপটপ না হয় ডেক্সটপ কিনে ফেলসে ১ম প্রফ পাস করে, হোস্টেল মোটামোটি বসুন্ধরার সিনেপ্লেক্স ছিল গত ২ বছর। কি শান্তি ছিল এই ২ বছরে টের পাওয়া যায় কমিউনিটি মেডিসিন রিটেনের আগে, সত্যি কথা মেজাজি স্যারদের সহানুভূতি রিটেনে না থাকলে যুদ্ধে যাওয়ার আগেই শহীদ হয়ে যাওয়া হতো। ফার্মার ২.৩০ ঘণ্টায় ২০X৩=৬০টা প্রমান সাইজের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বন্ধুদের সাথে এক্সাম হলে কথা কাঁটাকাটি করে পুরাই ফ্রাসট্রেটেড। অন্যরকম পরীক্ষা ফরেনসিক, নিজে পুরাই হুমায়ুন আহমেদ। প্যাথলজি আর মাইক্রোতে হল কিছু আদান আর কিছু প্রদানের খেলা। এরপর ভাইভা, সবাই বলে ফাইনাল প্রফের ভাইভা ভীতিকর, ২য় প্রফের কথা কেন জানি সবার স্মৃতি থেকে বাদ পড়ে যায়, হয়তো এটা এতই ইজি অথবা এতই ভীতিকর যে আমরা এটার কথা মনে করে আর কষ্ট পেতে চাই না। সবগুলো মোটামোটি ভালো মতই পার করে দিলাম, ধরা খেলাম শেষের দিন ফার্মা ভাইভা দিতে এসে। আলী স্যারের কাছে শেষ বোর্ডের শেষ পরীক্ষার্থী হিসাবে ভাইভা। শেষ ভালো যার সব ভালো তার, কথাটার সার্থকতা প্রমান করতে গিয়ে শেষটাই খারাপ করলাম। এতো খারাপ ভাইভা আমি লাইফে আর কখনো দেই নাই। স্যার হতাশ হয়ে বললেন, আচ্ছা যাও।
এরপর তো ধরেই নিলাম ২য় প্রফ আর একবারে পার হচ্ছে না। সঙ্গীসাথী অনেক, ২/৩ জন ছাড়া কেউই সব সাবজেক্ট পাসের ব্যাপারে আশাবাদী না। মাস খানেক পর রেসাল্ট দিবে দিবে, ফ্রেন্ডদের রুমে বসে আছি, এমন সময় ফ্রেন্ড রেসাল্ট নিয়ে আসলো। শুনে স্তম্ভিত, ওদের রুমের সবাই ফেল, মাত্র ৪০% এর মতো পাস। কোনভাবে ঐ ৪০% এ আমিও রয়ে গেলাম, কিন্তু ২য় প্রফের রেসাল্ট আর যাই হয়, কাউকে খুশি করে যেতে পারেনি। আপনি হয় কাঁদবেন, কিন্তু হাসবেন না। নিজে পাস করেও যে মনে কতোটা অপূর্ণতা থেকে যায়, ২য় প্রফে এসে বুঝা যায়। আলী স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ রয়ে গেলাম, এতো খারাপ ভাইভা দিয়েও পাস এটা ভাবতে এখনো অবাক লাগে মাঝে মাঝে।

ফাইনাল প্রফের কাহিনী আর নাই বলি, জানুয়ারির ৪/৬ ডিগ্রি টেম্পারেচারের ভোরে বরফ শীতল পানিতে ২ ঘণ্টার ঘুম থেকে জেগে হাতমুখ ধোওয়ার গল্প আর যাই হোক, এই গরমের জুলাই মাসে মানায় না।

এতোকিছু লিখার একটাই কারন, ৩ দিন পর প্রফ পরীক্ষা। এটা হতাশার গল্প না, অনুপ্রেরণার গল্পও না। এতো হতাশ হবেন না, আবার খুব বেশী খুশিও হবেন না। যে যেমন কষ্ট করে গেছেন, তার প্রতিদান অবশ্যই পাবেন।
যারা হতাশাগ্রস্ত তাদের জন্য, অনেকসময় কষ্টের পরেও কষ্টের আশানুরূপ ফল আসে না, আবার অনেকে দেখবেন প্রত্যাশার চেয়ে বেশী কিছু পেয়ে গেছে। এটা নিয়ে ভাববেন না, নিজেকে নিজের মাপকাঠিতেই শুধুমাত্র দেখবেন। আপনার সিনিয়ররা সবাই পাস করে গেছেন, আপনিও কখনো থেমে থাকবেন না। মেডিকেল লাইফটা তো শুধু এই কয়েকটা পরীক্ষা নিয়ে না।
যারা অনেক ভালো রেজাল্টের প্রত্যাশী, তাঁদেরকে সবার বাইরে কিছু করতে হবে যা শুধু সময় আর ভাগ্যই বলে দিবে। আপনাকে শুধু এটা ঠিক সময়ে ঠিক ভাবে বুঝে নিতে হবে মাত্র।

সবাইকে প্রফের জন্য শুভকামনা রইল। সবার মনকামনা পূর্ণ হোক।
Share:

এক নজরে...



ডাঃ লালা সৌরভ দাস

এমবিবিএস, ডিইএম (বারডেম), বিসিএস (স্বাস্থ্য)

ডায়াবেটিস, থাইরয়েড এবং হরমোন বিশেষজ্ঞ (এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট)

সহকারী সার্জন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা

কনসালটেন্ট, ওয়েসিস হাসপাতাল, সিলেট

প্রাক্তন আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন), পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

মেম্বার অফ বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি

মেম্বার অফ আমেরিকান এ্যাসোসিয়েশন অফ ক্লিনিকাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট



Subscribe

Recommend on Google

Recent Posts