ডায়াবেটিক রোগীর বাসায় নিয়মিত রক্তের সুগার পরিমাপের গুরুত্ব

একজন ডায়াবেটিক রোগীর নিজের নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্তের সুগার পরিমাপের গুরুত্ব অপরিসীম। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, রোগী ডায়াবেটিক রোগীরা হুট করে একটি বা দুইবেলার অনিন্ত্রিত সুগারের রিপোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা বাড়ির আসে পাশের ঔষধের দোকানদারকে দিয়ে করিয়ে হাজির হন ডাক্তারের কাছে। এতে করে ডাক্তার অনেকক্ষেত্রেই বুঝতে সক্ষম হন না, রোগীর গড়পড়তা রক্তের সুগারের পরিমাপ কতো।

তাই, আদর্শ পদ্ধতিতে বর্তমানে বাসায় নিজে থেকে সুগার পরিমাপ করে তা লিপিবদ্ধ করা এবং সুগার ডায়রি বা রেকর্ডটি নিয়মিত ভাবে ডাক্তারের চেক-আপের সময় নিয়ে আসা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রেন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসাবে কাজ করে।



এখন প্রশ্ন হচ্ছেঃ

কিভাবে বুঝব ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আছে কি না?

নিচের ছবিতে প্রদত্ত চার্টটি লক্ষ্য করুন। একজন ভালো এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করার সময় রোগীকে তার সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে একটি রক্তের সুগারের টার্গেট নির্ধারণ করে দিবেন।


রোগীকে খাদ্যাভ্যাস, হাঁটাচলা, ব্যায়াম এবং নিয়মিত ওষুধপত্র গ্রহনের মাধ্যমে নিজের রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রনমাত্রা মাঝে রাখতে হবে। সেটি একবেলা বা দুই বেলা নয়, প্রতিবেলার জন্যই নিয়মটি প্রযোজ্য। আদর্শ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন হবে তখনই যখন ২৪ ঘণ্টা রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রন মাত্রার ভিতরে থাকবে।

ডায়াবেটিক রোগীর নতুন ডায়াবেটিস বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আসার জন্য নতুন ওষুধ শুরু করার পরে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আসতে  প্রায় ২-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আদর্শ ভাবে নির্দেশনা পালনের ১ মাস পরেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না আসলে সে সেই ক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতি পুনরায় নির্ধারণের জন্য এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।  

 কিভাবে বাসায় রক্তের সুগার পরিমাপ করবো?

বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন কোম্পানির সুগার মাপার মেশিন (Glucometer) আছে। তবে সুগার মাপার মেশিন কেনার সময় অপেক্ষাকৃত ভালো কোম্পানি এবং স্ট্রিপ পাওয়া যায় এমন মেশিন কেনাই ভালো। এরকম কয়েকটি ভালো মেশিন হচ্ছে, জনসন এন্ড জনসন কোম্পানির OneTouch মেশিন সমূহ, AccuCheck Glucometer ইত্যাদি।

কতদিন পর পর সুগার পরিমাপ করব? 

আপনার এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট আপনার চিকিৎসার ধরনের উপর ভিত্তি করে আপনাকে সপ্তাহে কতোদিন কতবার সুগার পরিমাপ করবেন তা নির্ধারণ করে দিবেন। সাধারনত অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আপনাকে সপ্তাহে ২-৩ বার করে ১-২দিন অন্তর অন্তর দুই থেকে চারবেলা সুগার পরিমাপ করে দেখতে হবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে এসেছে কিনা।

সুনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে অন্তত এক বা দুই সপ্তাহ অন্তর অন্তর সুগার যাচাই করে দেখতে হবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আছে কিনা।

ডায়াবেটিস নিচের মতো করে "সুগার ডায়রি" আকারে লিপিবদ্ধ করবেন এবং তা ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহনের সময় নিয়ে আসবেন।

সুগার কমে যাওয়ার সমাধান কি?


 বাসায় ডায়াবেটিস রোগীর নিজে নিজের সুগার পরিমাপের সুবিধা সমূহঃ

১) নিজের রোগ নিজে নিয়ন্ত্রনে ভূমিকা রাখা এবং নিজের প্রতি আস্থা জন্মানো।
২) সুগার কমে যাওয়ার সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা এবং তা প্রতিরোধ বা দ্রুত সমাধান।
৩) প্রতিবারের সুগারের রেকর্ড পর্যালোচনা করে ডাক্তারের কাছে আদর্শ ব্যবস্থাপত্র গ্রহনের নিশ্চয়তা।
৪) গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের শারীরিক ঝুকি থেকে মুক্ত থাকা।
৫) পর্যাপ্ত পরিমানে ডায়াবেটিসের ওষুধ সম্পর্কে ধারনা নিয়ে নিজের ইনসুলিনের ডোজ নিজেই কমানো বাড়ানো।



Share:

কোন মন্তব্য নেই:

এক নজরে...



ডাঃ লালা সৌরভ দাস

এমবিবিএস, ডিইএম (বারডেম)

ডায়াবেটিস, থাইরয়েড এবং হরমোন বিশেষজ্ঞ (এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট)

কনসালটেন্ট, ওয়েসিস হাসপাতাল, সিলেট

প্রাক্তন মেডিকেল অফিসার, সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতাল

মেম্বার অফ বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি

মেম্বার অফ আমেরিকান এ্যাসোসিয়েশন অফ ক্লিনিকাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট



Subscribe

Recommend on Google

Recent Posts