অমর একুশের স্মরণে...

খুব ছোটবেলায় জাতীয় সরকারী ছুটির দিনগুলি কোনটা কিসের জন্য, সেটা মনে রাখতে বেশ হিমসিম খেতাম। সরকার বদলের সাথে সাথে ক্যালেন্ডারের কিছু ছুটির দিনের বদল হতো। তবুও যে কয়টি দিন কখনো ভুলে যাওয়া হয়নি এদের মাঝে একটি, একুশে ফেব্রুয়ারি।



স্কুলের ক্লাসের একটু উপরের দিকে উঠার পর থেকেই বাংলা রচনার কলামে প্রশ্ন আসতে লাগলো, একুশে ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে। রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, ঢাকা মেডিকেল, ঢাকা হাইকোর্ট, ভাষা আন্দোলন এমন কিছু শব্দ নিজের অজান্তেই মনে গেঁথে গেলো স্বর্ণাক্ষরে। আরও কিছু বছর পার হল। নতুন মেলেনিয়ামে ইউনিস্কোর সহযোগিতায় একুশে ফেব্রুয়ারি ততদিনে রূপ নিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে। বাংলা রচনার শিরোনামটা পাল্টে গেলো সেই সুবাদে। রচনার বর্ণনায় যুক্ত হল আরও কিছু তথ্যউপাত্ত। জানলাম ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে পৃথিবীর বুকে নাম করে নেয়া জাতি একমাত্র আমরাই।

গত কয়েকটা বছর ধরে বাংলার চেয়ে ইংরেজিতেই লেখাপড়া হয়ে উঠে বেশী। তারপরও কোথাও বাংলায় কিছু লিখতে পারার সুযোগ হলে, নিজের অজান্তেই মনে আনন্দ জাগে। হোক সেটা ফেসবুকে ওয়ালে অথবা প্রেসক্রিপশনের উপদেশের পাতায়। মা আর মাতৃভাষার বুঝি কোন তুলনা হয় না।

কয়েকদিন আগে কারন ছাড়াই মনে প্রশ্ন এসেছিলো, আমি চাইলে পৃথিবীর ঠিক কতো শতাংশ লোকের সাথে কথা বলতে পারবো। অবাক হয়েই ভেবে দেখলাম, পৃথিবীর সপ্তম বৃহৎ ভাষা আমার মাতৃভাষা আর ইংরেজিকে যদি দ্বিতীয় ভাষা হিসাবেই গণ্য করি তাহলে সব মিলিয়ে খুব কম হলেও অর্ধেকেরও বেশী লোকের সাথে অন্তত ভাবের আদানপ্রদান করা সম্ভব।

ঘুরেফিরে সবকিছুর পিছনে একটাই দিন। ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২। কিছু সংগ্রামী তরুণের দেখানো পথ ধরেই এতোদূর আসা। ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা।
Share:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এক নজরে...


ডাঃ লালা সৌরভ দাস

এমবিবিএস, ডিইএম (বারডেম)

ডায়াবেটিস, থাইরয়েড এবং হরমোন বিশেষজ্ঞ (এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট)

মেম্বার অফ বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি

মেম্বার অফ আমেরিকান এ্যাসোসিয়েশন অফ ক্লিনিকাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট

Subscribe

Recommend on Google

Recent Posts