১৪ এপ্রিল, ২০১৫

শুভ নববর্ষ, ১৪২২

হেলা বৈশাখ, ১৪২০। ২০১৩ সালের পহেলা বৈশাখ। ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার রেজাল্ট এর কিছুদিন আগে দিয়েছে মাত্র। নব্যসৃষ্ট আমরা উৎসাহী ডাক্তাররা হাসপাতালে ইন্টার্নীতে নতুন বছরের আগেই শুরু করবো কিনা এই নিয়ে বিস্তর গবেষণার পর ঠিক হল, ১৭তম ব্যাচের ইন্টার্ন শুরু করার দিনটিও হবে ইংরেজি মাসের ১৭ তারিখ। অর্থাৎ পহেলা বৈশাখের আরও ৩ দিন পর। এই ৩ দিনের ছুটির সুযোগে বাসায় ঘুরে আসতে চলে গেলো ব্যাচম্যাট প্রায় সবাই। ক্যাম্পাসে রয়ে গেলাম আমরা অল্প কয়েকজন।

সেইবার ক্যাম্পাসে পহেলা বৈশাখ পালন করতে গিয়ে পরিচিত অপরিচিত মুখগুলোর ভিড়ে থেকেও নিজেদের তেমন উপস্থিতি না থাকায় যেন কিছুটা ঘাটতি রয়ে গেলো উৎসবের আনন্দে। তবে চোখের সামনেই দেখতে পেলাম মেডিকেল কলেজের ১৬তম ব্যাচের পহেলা বৈশাখের আনন্দকে। বিদায়ক্ষণে ক্যাম্পাসের শেষ পহেলা বৈশাখকে স্মৃতিতে জড়িয়ে রাখার প্রচেষ্টা।

এরপর দিন গেলো, মাস গেলো। ইন্টার্নীর সময়টা পার করে অনেক দ্রুতই যেন চলে এলো আরেক পহেলা বৈশাখ, ১৪২১। নতুন বছরের আগমনবানী মনে করিয়ে দিলো, আমাদেরও বিদায়ের সময় সন্নিকটে। তবে এবার ক্যাম্পাসের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে আমাদের ১৭তম ব্যাচের সকলেই উপস্থিত। সবার উপস্থিতিতে সম্ভবত ক্যাম্পাস জীবনের সবচেয়ে স্মৃতি বিজড়িত পহেলা বৈশাখ।




যেকোনো উৎসবে আনন্দের উৎস অনুষ্ঠানের উপকরণ, তথাকথিত আচারব্যবহার, গান এসব না যতটুকু, তার চাইতেও বেশী আনন্দের উৎস হয়ে দাড়ায় উৎসবের অংশ নেয়া মানুষগুলি। সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে চেনা পরিচিতির গণ্ডীর মাঝে থাকা কাছের এবং দূরের মানুষগুলো যখন একসাথে জড়ো হয়, তখন যে আনন্দের জন্ম নেয় তার কোন তুলনা হয়ে উঠে না।


পহেলা বৈশাখ আর ১৪২২ প্রিয়জনদের সাথে সকলের আনন্দে কাটুক, নতুন বছর সবার জন্য স্বপ্নপূরণের বার্তা নিয়ে আসুক, এই প্রত্যাশায়।।